সরকারি চাকরিজীবীদের জরুরি আদেশ

0
176

বিভাগীয় প্রধানের অনুমতি নিয়েই সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে পারবেন। পূবানুমতি ছাড়া কথা বললে তা সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধির ব্যত্যয় বলে গণ্য হবে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক আদেশে এসব কথা বলা হয়েছে।

একইসঙ্গে সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সিনিয়র সচিব ও সচিবকে চিঠি দিয়ে জানানো হয়েছে, বিষয়টি স্ব-স্ব মন্ত্রণালয়ের সর্বস্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীকে অবহিত করতে। অধঃস্তন সব অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারী কোনো গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে পারবেন না। বলতে হলে বিভাগীয় প্রধানের পূর্বানুমতি নিতে হবে।

এ সংক্রান্ত সরকারি আদেশ জারি করার বিষয়টি স্বীকার করেছেন জনপ্রশাসন সচিব শেখ ইউসুফ হারুন।

মঙ্গলবার জারি করা ওই পরিপত্রে বলা হয়েছে, সম্প্রতি দেখা যাচ্ছে যে, সরকারি কর্মচারী আচরণ বিধির ব্যত্যয় ঘটিয়ে কোনো কোনো কর্মচারী গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলছেন। এদের মধ্যে অনেকেই আছেন যারা প্রকৃত দায়িত্ব পালনের সঙ্গে সম্পৃক্ত নয়। আবার কথা বলার আগে বিভাগীয় প্রদানেরও পূর্বানুমতি নিচ্ছেন না। ফলে নানা ধরনের বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে। তারা সরকারি নীতি-নির্ধারণী বিষয়েও বক্তব্য দিচ্ছেন। তাদের বক্তব্যে সরকারের নীতি-নির্ধারণী বিষয়ও প্রকাশিত হচ্ছে। অনেক সরকারি কর্মচারী বেতার, বাংলাদেশ টেলিভিশন, বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের সংবাদ, টকশো, আলোচনা অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছেন। পত্রিকার মাধ্যমে বক্তব্য ও মতামত নিবন্ধনপত্র প্রকাশ করছেন। বেতার, টেলিভিশন সম্প্রচারে অংশগ্রহণ এবং সংবাদ মাধ্যমের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা ১৯৭৯ অনুসরণের কথা থাকলেও তা প্রতিপালন করা হচ্ছে না। এতে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হচ্ছে।

গণকর্মচারী আচরণ বিধিমালার ২২ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, কোনো সরকারি কর্মচারী দপ্তর প্রধানের পূর্বানুমতি ছাড়া অথবা কর্তব্য সম্পাদনের প্রকৃত প্রয়োজন ছাড়া বেতার টেলিভিশনের সম্প্রচার অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করা অথবা সংবাদপত্র বা সাময়িক পত্রিকায় ছদ্ম নামে অথবা নিজের নামে অথবা অন্য কোনো ব্যক্তির নামে কোনো নিবন্ধ বা কোনো পত্র লিখতে পারবেন না। তবে শর্ত থাকে যে, সাধারণত এ ধরনের অনুমোদন দেওয়া হয় যদি এসব সম্প্রচার বা নিবন্ধন বা চিঠিপত্র সরকারি কর্মচারীর ন্যায়পরায়ণতা, বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা, বিদেশি অথবা বিদেশি রাষ্ট্রের সঙ্গে বন্ধুসুলভ সম্পর্ক অথবা জনআইন শৃঙ্খলা, শালীনতা বা নৈতিকতার বিঘ্ন না ঘটানো বা আদালত অবমাননা, অপবাদ বা কোনো দুষ্কর্মে প্ররোচিত করার মাধ্যমে বিপন্ন না হয় এবং বিপন্ন না হওয়ার মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয়।

তবে বিধিমালা ১৯৭৯ সালের হওয়ায় যারা এরই মধ্যে বিভাগীয় প্রধানের পূর্বানুমতি ছাড়াই কথা বলেছেন, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা। ব্যবস্থা না নিয়ে শুধু স্মরণ করিয়ে দেওয়ার জন্যই আদেশ জারি করা হয়েছে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে